বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট- First Stamps of Bangladesh
ডাকটিকিট সংগ্রহ আমার নেশা। এই বিষয়ক লেখালেখি ও আমি নিয়মিত পড়ি এবং লিখি। আজ তুলে ধরলাম, বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে। কস্টকরে জানাবেন, কেমন লাগলো।
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত ডাকটিকিটঃ
১. 'বাংলাদেশের মানচিত্র' সংবলিত গাঢ় লাল, নীল ও বেগুনী রঙ এর ডাকটিকিট। যার ফেস ভ্যালু ছিলো ১০ পয়সা।
২. 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকান্ড' শীর্ষক রক্তলাল ছাপের ওপর হলুদ লেখা ঢাকা ইউনিভার্সিটি। গাঢ় সবুজ রঙ। ফেস ভ্যালু ছিলো ২০ পয়সা।
৩. 'সাড়ে সাত কোটি বাঙালী জাতি' শীর্ষক হালকা বাদামী লেখা, ধূসর এবং গোলাপী রঙের। যার ফেস ভ্যালু ৫০ পয়সা।
৪. 'বাংলাদেশের মানচিত্র সহ জাতীয় পতাকা' সংবলিত সবুজ রঙের উপর লাল সূর্যের মধ্যে হলুদ বাংলাদেশের মানচিত্র। যার ফেস ভ্যালু ১ টাকা।
৫. '১৯৭১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সতকরা ৯৮ ভাগ ভোট প্রদান' শীর্ষক ব্যালট বাক্সের প্রতীক নিক্তির মধ্যে সাদা ও ম্যাজেন্ডা রঙ। এর ফেসভ্যালু ছিলো ২ টাকা।
৬. '১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণা সহ শিকল ছেঁড়ার চিত্র' গাঢ় সবুজ ও নীল রঙের। যার মুল্য ছিলো ৩ টাকা।
৭. 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' ছবি সংবলিত সোনালী-সদৃশ, কমলা, গাঢ় বাদামী ও হাফ টোন কালো রঙ এর। যার মূল্য ছিলো ৫ টাকা।
৮. 'বাংলাদেশ কে সমর্থন করুন' শীর্ষক মেজেন্ডা রঙ এর মধ্যে বাংলাদেশের সোনালি রঙ এর মানচিত্র। যার মুল্য ১০ টাকা।
প্রত্যেকটি #ডাকটিকিট এ বাংলাদেশ শব্দ টি ইংরেজি ও বাংলা দু'টি পৃথক শব্দ হিসেবে লেখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালে #মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই ডাকটিকিটগুলো আত্মপ্রকাশ করে । বিভিন্ন দেশের পত্র পত্রিকায় ছবি সহ এই ডাকটিকিটগুলো সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয় । এই ডাকটিকিট গুলো প্রকাশ হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, সংবাদপত্র ও ফিলাটেলিস্ট দের মধ্যে আলোড়ন সৃস্টি হয় । পাকিস্তান সরকার এই ডাকটিকিটগুলো বেআইনী ঘোষনা করে প্রস্তাব করলেও, সকল অভিযোগ উপেক্ষা করে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ডাকটিকিট এর ব্যবহার চালু হয়ে যায় । মুক্তাঞ্চল থেকে পাঠানো বহু চিঠিপত্রে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিলো । ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের পর ২০ ডিসেম্বর দশ পয়সা, পাঁচ টাকা ও দশ টাকা মূল্যের ডাকটিকিট গুলোর উপর "বাংলাদেশ মুক্ত" (Bangladesh Liberated) শব্দগুলো ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হয় । এই প্রক্রিয়াকে ওভার প্রিন্টিং বলে ।
১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই লন্ডনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ডাকটিকিট গুলোর প্রকাশনা উৎসব অনুস্টহিত হলেও ২৯ জুলাই বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল, ভারত, যুক্তরাজ্য, উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকা । ইউরোপ অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশে এগুলো আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয় । অনুষ্ঠান শেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এর একটি কক্ষে বিশেষ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইএ ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কভার বিক্রি করা হয় । বাংলাদেশের একজন ব্যবসায়ী ২৩০ পাউন্ড দিয়ে প্রথম সেটটি ক্রয় করেন । প্রথম দিনই উঠে আসে প্রায় ১০০০ পাউণ্ড । পুরো অর্থই মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহার করা হয় ।
প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ মুক্তাঞ্চল থেকে ডাকটিকিট প্রচলন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলেই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব বাস্তব সত্য হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়ে ওঠে । আর এর কারণে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর পায়ের নীচের মাটিও সরতে থাকে ।
তাজউদ্দিন আহমদ মিঃ জন স্টোনহাউস কে ডাকটিকিট প্রকাশের দায়িত্ব দেন । স্টোনহাউস লন্ডনে ফিরে বিমান মল্লিক এর সাথে যোগাযোগ করেন এবং ডাকটিকিট ডিজাইন এর ব্যাপারে অনুরোধ করেন । বিমান মল্লিক, যিনি ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের একজন বাঙ্গালী গ্রাফিক্স শিল্পী । তিনি তখন লন্ডনের কেন্টের ফোক স্টোন স্কুল অব আর্ট এসেক্সের হারলো টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যাপনায় নিয়োজিত ছিলেন । তিনি ভেবে দেখলেন, এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে বাংলাদেশী জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে, সাধ্যমপ্ত সহযোগীতা করা হবে । তিনি সম্মতি জানিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করেন । সময় অভাবে তিনি এই নকশা গুলোর বিকল্প নকশা ও করেন নি ।
বিমান মল্লিক এই কাজের জন্য কোন পারিশ্রমিক নেননি । এমনকি এর প্রাপ্য রয়ালিটি সম্পর্কে কোন চুক্তিপত্র ও স্বাক্ষর করেননি ।
ব্রিটেনের একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান ওয়ার অন ওয়ান্ট এর চেয়ারম্যান ডোনাল্ড চেস ওয়ার্থ এই ডাকটিকিট নিয়ে কলকাতা আসেন এবং প্রবাসী সরকারের অনুমতি নিয়ে লন্ডনে ফিরে গিয়ে "ফরম্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড" কে দায়িত্ব প্রয়াদান করে, এই ডাকটিকিট গুলোকে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ছাপানোর ব্যবস্থা করেন । এভাবেই আমরা পেলাম, আমাদের প্রথম ডাকটিকিট ।
বিঃদ্রঃ
-ছবিটি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে তোলা । আমার বেশ পছন্দের সেট ।
-তথ্য সমুহে কোন ভুল থাকলে ধরিয়ে দিবেন প্লীজ, কারণ মানুষ মাত্রই ভুল । ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন আশা করি ।
তথ্যসুত্রঃ
১. দৈনিক প্রথম আলো ।
২. ডাকটিকিটের কথা- আ ব ম মহিউদ্দীন খান চৌধুরী ।
৩. বাংলাদেশ ডাক এর জার্নাল ।
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত ডাকটিকিটঃ
১. 'বাংলাদেশের মানচিত্র' সংবলিত গাঢ় লাল, নীল ও বেগুনী রঙ এর ডাকটিকিট। যার ফেস ভ্যালু ছিলো ১০ পয়সা।
২. 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকান্ড' শীর্ষক রক্তলাল ছাপের ওপর হলুদ লেখা ঢাকা ইউনিভার্সিটি। গাঢ় সবুজ রঙ। ফেস ভ্যালু ছিলো ২০ পয়সা।
৩. 'সাড়ে সাত কোটি বাঙালী জাতি' শীর্ষক হালকা বাদামী লেখা, ধূসর এবং গোলাপী রঙের। যার ফেস ভ্যালু ৫০ পয়সা।
৪. 'বাংলাদেশের মানচিত্র সহ জাতীয় পতাকা' সংবলিত সবুজ রঙের উপর লাল সূর্যের মধ্যে হলুদ বাংলাদেশের মানচিত্র। যার ফেস ভ্যালু ১ টাকা।
৫. '১৯৭১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সতকরা ৯৮ ভাগ ভোট প্রদান' শীর্ষক ব্যালট বাক্সের প্রতীক নিক্তির মধ্যে সাদা ও ম্যাজেন্ডা রঙ। এর ফেসভ্যালু ছিলো ২ টাকা।
৬. '১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণা সহ শিকল ছেঁড়ার চিত্র' গাঢ় সবুজ ও নীল রঙের। যার মুল্য ছিলো ৩ টাকা।
৭. 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' ছবি সংবলিত সোনালী-সদৃশ, কমলা, গাঢ় বাদামী ও হাফ টোন কালো রঙ এর। যার মূল্য ছিলো ৫ টাকা।
৮. 'বাংলাদেশ কে সমর্থন করুন' শীর্ষক মেজেন্ডা রঙ এর মধ্যে বাংলাদেশের সোনালি রঙ এর মানচিত্র। যার মুল্য ১০ টাকা।
প্রত্যেকটি #ডাকটিকিট এ বাংলাদেশ শব্দ টি ইংরেজি ও বাংলা দু'টি পৃথক শব্দ হিসেবে লেখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালে #মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই ডাকটিকিটগুলো আত্মপ্রকাশ করে । বিভিন্ন দেশের পত্র পত্রিকায় ছবি সহ এই ডাকটিকিটগুলো সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয় । এই ডাকটিকিট গুলো প্রকাশ হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, সংবাদপত্র ও ফিলাটেলিস্ট দের মধ্যে আলোড়ন সৃস্টি হয় । পাকিস্তান সরকার এই ডাকটিকিটগুলো বেআইনী ঘোষনা করে প্রস্তাব করলেও, সকল অভিযোগ উপেক্ষা করে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ডাকটিকিট এর ব্যবহার চালু হয়ে যায় । মুক্তাঞ্চল থেকে পাঠানো বহু চিঠিপত্রে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিলো । ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের পর ২০ ডিসেম্বর দশ পয়সা, পাঁচ টাকা ও দশ টাকা মূল্যের ডাকটিকিট গুলোর উপর "বাংলাদেশ মুক্ত" (Bangladesh Liberated) শব্দগুলো ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হয় । এই প্রক্রিয়াকে ওভার প্রিন্টিং বলে ।
১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই লন্ডনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ডাকটিকিট গুলোর প্রকাশনা উৎসব অনুস্টহিত হলেও ২৯ জুলাই বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল, ভারত, যুক্তরাজ্য, উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকা । ইউরোপ অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশে এগুলো আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয় । অনুষ্ঠান শেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এর একটি কক্ষে বিশেষ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইএ ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কভার বিক্রি করা হয় । বাংলাদেশের একজন ব্যবসায়ী ২৩০ পাউন্ড দিয়ে প্রথম সেটটি ক্রয় করেন । প্রথম দিনই উঠে আসে প্রায় ১০০০ পাউণ্ড । পুরো অর্থই মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহার করা হয় ।
প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ মুক্তাঞ্চল থেকে ডাকটিকিট প্রচলন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলেই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব বাস্তব সত্য হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়ে ওঠে । আর এর কারণে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর পায়ের নীচের মাটিও সরতে থাকে ।
তাজউদ্দিন আহমদ মিঃ জন স্টোনহাউস কে ডাকটিকিট প্রকাশের দায়িত্ব দেন । স্টোনহাউস লন্ডনে ফিরে বিমান মল্লিক এর সাথে যোগাযোগ করেন এবং ডাকটিকিট ডিজাইন এর ব্যাপারে অনুরোধ করেন । বিমান মল্লিক, যিনি ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের একজন বাঙ্গালী গ্রাফিক্স শিল্পী । তিনি তখন লন্ডনের কেন্টের ফোক স্টোন স্কুল অব আর্ট এসেক্সের হারলো টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যাপনায় নিয়োজিত ছিলেন । তিনি ভেবে দেখলেন, এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে বাংলাদেশী জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে, সাধ্যমপ্ত সহযোগীতা করা হবে । তিনি সম্মতি জানিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করেন । সময় অভাবে তিনি এই নকশা গুলোর বিকল্প নকশা ও করেন নি ।
বিমান মল্লিক এই কাজের জন্য কোন পারিশ্রমিক নেননি । এমনকি এর প্রাপ্য রয়ালিটি সম্পর্কে কোন চুক্তিপত্র ও স্বাক্ষর করেননি ।
ব্রিটেনের একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান ওয়ার অন ওয়ান্ট এর চেয়ারম্যান ডোনাল্ড চেস ওয়ার্থ এই ডাকটিকিট নিয়ে কলকাতা আসেন এবং প্রবাসী সরকারের অনুমতি নিয়ে লন্ডনে ফিরে গিয়ে "ফরম্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড" কে দায়িত্ব প্রয়াদান করে, এই ডাকটিকিট গুলোকে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ছাপানোর ব্যবস্থা করেন । এভাবেই আমরা পেলাম, আমাদের প্রথম ডাকটিকিট ।
বিঃদ্রঃ
-ছবিটি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে তোলা । আমার বেশ পছন্দের সেট ।
-তথ্য সমুহে কোন ভুল থাকলে ধরিয়ে দিবেন প্লীজ, কারণ মানুষ মাত্রই ভুল । ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন আশা করি ।
তথ্যসুত্রঃ
১. দৈনিক প্রথম আলো ।
২. ডাকটিকিটের কথা- আ ব ম মহিউদ্দীন খান চৌধুরী ।
৩. বাংলাদেশ ডাক এর জার্নাল ।



Comments
Post a Comment