ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে কেন?
Neighborhood First বা প্রতিবেশীরা সবার আগে মূল মন্ত্র - যখন ভারতের মোদী সরকার ২০১৪ সালে ঘোষণা করেছিলেন, তখন অপেক্ষাকৃত দূরের রাস্ট্রগুলোর চেয়ে, কাছের রাস্ট্রগুলো অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয় রাস্ট্রগুলোর সাথের সম্পর্ক কে ভারত বেশী গুরুত্ব দিবে, তাদের স্বার্থকে প্রাধাণ্য দিবে এমনটাই কথা ছিলো । কিন্ত ভারত কি তা করতে পেরেছে ? সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার কারণেই আজ ভারত এর প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো তাদের উপর । এছাড়াও আরোও বেশ কিছু কারণও সাম্প্রতিককালে পরিলক্ষিত হচ্ছে । এই কারণগুলো নির্দিষ্ট দেশ ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে একেক রকম । যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
1. সীমান্ত সংঘাত:
চীন: ভারত এবং চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর থেকেই সীমান্তের অচলাবস্থা চলছে। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখ অঞ্চলে সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। চীন প্রায়ই ভারতের সীমান্তে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করে, যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
পাকিস্তান: কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। ১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলছে। বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ, হামলা, ও সীমান্ত উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ককে দিনদিন আরও জটিল করেছে।
2. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ধর্মীয় নীতি
বাংলাদেশ: ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেমন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) বাংলাদেশের মত প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এই আইনের কারণে ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
নেপাল: ভারতের রাজনৈতিক নীতির কারণে নেপালও ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে ভারতের সম্প্রতি ভূস্বত্বাগত মানচিত্রের পরিবর্তন এবং কিছু বিতর্কিত স্থানে ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নেপালের সাথে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে ।
3. প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু
ভারত-বাংলাদেশ: গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বন্টন নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে। ভারত কর্তৃক পানি প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের কৃষি ও জলসম্পদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারত-নেপাল: ভারতের তিস্তায় বাঁধ নির্মাণের কারণে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বন্টন নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
4. অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সমস্যা
শ্রীলঙ্কা: ভারতের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার অভিযোগ রয়েছে যে ভারত যথেষ্ট পরিমাণে অর্থনৈতিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করে না, যা শ্রীলঙ্কার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মিয়ানমার: ভারতের রোহিঙ্গা সংকটের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ার কারণে মিয়ানমার সরকার উদ্বিগ্ন। মিয়ানমার সীমান্তে ভারতের সহায়তার অভাব এই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
5. সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তার উদ্বেগ
- মিয়ানমার: ভারতের সীমান্ত বরাবর মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারত বিভিন্ন সময় মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের কারণে সমস্যা দেখেছে।
- বাংলাদেশঃ সম্প্রতি বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান এর সময় ভারতের কুটনৈতিক কৌশল ছিল প্রশ্নবিদ্ধ । এমনকি, বাংলাদেশ থেকে পদত্যাগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেয়াটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে, যা বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের মাঝে একটা প্রভাব ফেলবে ।
এই কারণগুলির প্রতিটি ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সব দেশেই উত্থিত সমস্যাগুলি নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকারের বরাবরই এসকল সমস্যা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা যায়। যার ফলে, বর্তমানে ভারতের সাথে তার প্রতিবেশী রাস্ট্রগুলোর একটা শীতল সম্পর্ক বিদ্যমান ।

Comments
Post a Comment